✔ ফ্রিস্টাইলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো: উপকারিতা, সঠিক নিয়ম ও WHO-এর পরামর্শ

ফ্রিস্টাইলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা 

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি স্বাস্থ্যশিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর খাওয়ানো, ওজন বৃদ্ধি বা স্তন্যদান নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞ (Lactation Consultant)-এর পরামর্শ নিন।

ফ্রিস্টাইলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো
ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং
নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধ হলো সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিক খাবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফ (UNICEF) জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়। তবে অনেক নতুন মায়ের একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—শিশুকে কি নির্দিষ্ট সময় পরপর বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, নাকি যখনই সে চাইবে তখনই খাওয়ানো উচিত? এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো "ফ্রিস্টাইল" বা "অন-ডিমান্ড ব্রেস্টফিডিং (On-Demand Breastfeeding)"। অর্থাৎ, শিশু যখন ক্ষুধার সংকেত দেয়, তখন তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। এটি কোনো নির্দিষ্ট ঘড়ির সময় মেনে নয়, বরং শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী করা হয়। বর্তমানে WHO, UNICEF এবং বিভিন্ন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকেই সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন।

ফ্রিস্টাইল (On-Demand) Breastfeeding কী?

ফ্রিস্টাইল বা অন-ডিমান্ড ব্রেস্টফিডিং বলতে বোঝায়, শিশু যখন ক্ষুধার লক্ষণ দেখাবে, তখনই তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো।

এক্ষেত্রে—

  • প্রতি ২ বা ৩ ঘণ্টা পরপর ঘড়ি দেখে খাওয়ানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
  • শিশুর ক্ষুধার সংকেত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
  • দিন ও রাত—উভয় সময়েই প্রয়োজন অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়ানো হয়।

বিশেষ করে জীবনের প্রথম কয়েক মাসে এই পদ্ধতি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধ উৎপাদন বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

WHO ও UNICEF কী পরামর্শ দেয়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের সুপারিশ অনুযায়ী—

  • জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা উচিত।
  • জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ (Exclusive Breastfeeding) খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • শিশু যখনই ক্ষুধার লক্ষণ দেখাবে, তখনই দিন বা রাত—যেকোনো সময় বুকের দুধ দিতে হবে।
  • ৬ মাস পর সম্পূরক খাবার শুরু করলেও কমপক্ষে ২ বছর বা তারও বেশি সময় বুকের দুধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করা হয়।

কীভাবে বুঝবেন শিশু ক্ষুধার্ত?

অনেকেই মনে করেন, শিশু কাঁদতে শুরু করলেই সে ক্ষুধার্ত। কিন্তু আসলে কান্না ক্ষুধার দেরিতে প্রকাশ পাওয়া একটি সংকেত।

তার আগে শিশু সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখায়।

প্রাথমিক ক্ষুধার লক্ষণ

  • মুখ খুলে স্তন খোঁজার চেষ্টা করা (Rooting Reflex)
  • ঠোঁট নাড়ানো
  • হাত বা আঙুল মুখে দেওয়া
  • চোষার চেষ্টা করা বা জিহ্বা নাড়ানো
  • মাথা এদিক-ওদিক ঘোরানো

মাঝারি পর্যায়ের লক্ষণ

  • অস্থির হয়ে যাওয়া
  • হাত-পা বেশি নাড়ানো
  • হালকা শব্দ বা অস্থিরতার প্রকাশ করা

দেরিতে দেখা দেওয়া লক্ষণ

  • জোরে কান্না করা
  • বিরক্ত হয়ে যাওয়া
  • শান্ত হতে না চাওয়া

যদি প্রথম দিকের সংকেতেই বুকের দুধ দেওয়া যায়, তাহলে শিশুকে খাওয়ানো সহজ হয়।

ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিংয়ের প্রধান উপকারিতা

১. শিশুর চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টি নিশ্চিত হয়

প্রতিটি শিশুর ক্ষুধা এক রকম নয়।

কেউ কম সময় পরপর খেতে চায়, আবার কেউ কিছুটা বিরতি দিয়ে খায়।

অন-ডিমান্ড পদ্ধতিতে শিশুর নিজের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২. মায়ের দুধ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে

বুকের দুধ উৎপাদন অনেকটাই চাহিদা ও সরবরাহের (Supply and Demand) নীতির ওপর নির্ভর করে।

শিশু যত বেশি কার্যকরভাবে বুকের দুধ পান করবে, শরীর তত বেশি দুধ উৎপাদনের সংকেত পাবে।

৩. শিশুর ওজন বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়ক

পর্যাপ্ত ও কার্যকরভাবে বুকের দুধ পান করলে শিশুর স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

তবে ওজন বৃদ্ধির হার শিশু ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।

৪. শিশুর মানসিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে

বুকের দুধ শুধু খাবার নয়। এটি শিশুর কাছে মায়ের স্পর্শ, উষ্ণতা, নিরাপত্তা ও স্নেহ পৌঁছে দেয়।

এতে মা ও শিশুর মধ্যে আবেগিক বন্ধন আরও দৃঢ় হতে পারে।

৫. রাতের বেলায়ও উপকারী

অনেক নবজাতক রাতে একাধিকবার বুকের দুধ খেতে চায়। এটি স্বাভাবিক।

রাতের স্তন্যদান নবজাতকের জন্য বিভিন্নভাবে উপকারী।

  • শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করে।
  • মায়ের দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
  • নবজাতকের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে।

একজন মায়ের জন্য ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিংয়ের সুবিধা

শুধু শিশুই নয়, মায়ের জন্যও ফ্রিস্টাইল বা অন-ডিমান্ড ব্রেস্টফিডিংয়ের বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে।

  • স্তনে অতিরিক্ত দুধ জমে অস্বস্তি (Breast Engorgement) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
  • স্তনে অতিরিক্ত চাপ বা ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • মায়ের দুধ উৎপাদন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
  • মা ও শিশুর মধ্যে আবেগিক বন্ধন আরও গভীর হতে পারে।

কতবার বুকের দুধ খাওয়ানো স্বাভাবিক?

জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে অনেক নবজাতক ২৪ ঘণ্টায় সাধারণত ৮–১২ বার বা শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশি বার বুকের দুধ পান করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার খাওয়ার ধরন, খাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান এবং প্রতিবার খাওয়ার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই ঘড়ির নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে শিশুর ক্ষুধার সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১: "বারবার দুধ দিলে শিশু অভ্যাস করে ফেলবে"

বাস্তবতা: নবজাতক ও ছোট শিশুর ক্ষেত্রে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এতে শিশুর খারাপ অভ্যাস তৈরি হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ভুল ধারণা ২: "প্রতি তিন ঘণ্টা পরপরই খাওয়াতে হবে"

বাস্তবতা: অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সূচি কার্যকর হতে পারে। তবে বিশেষ করে সুস্থ নবজাতকের ক্ষেত্রে ক্ষুধার সংকেত অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়ানোই অধিক উপযোগী।

ভুল ধারণা ৩: "রাতে শিশুকে জাগিয়ে দুধ খাওয়ানো উচিত নয়"

বাস্তবতা: বিশেষ করে কম ওজনের, অপরিণত (Premature) অথবা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকা নবজাতকের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় না খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জাগিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

পার্ট–১ সংক্ষেপে

এই অংশে আমরা জেনেছি—

  • ফ্রিস্টাইল (On-Demand) Breastfeeding কী।
  • WHO ও UNICEF কী সুপারিশ করে।
  • শিশুর ক্ষুধার প্রাথমিক লক্ষণ কীভাবে চিনবেন।
  • ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিংয়ের শিশু ও মায়ের জন্য প্রধান উপকারিতা।
  • এ নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

পার্ট–২-এ যা থাকবে

  • সঠিকভাবে ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং করার নিয়ম।
  • কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
  • কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন।
  • কর্মজীবী মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

আরও পড়ুন:

ফ্রিস্টাইলে (On-Demand) শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা (পার্ট–২)

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি স্বাস্থ্যশিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা। আপনার শিশুর ওজন না বাড়লে, বুকের দুধ খেতে সমস্যা হলে বা স্তন্যদান নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


কীভাবে সঠিকভাবে ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং করবেন?

ফ্রিস্টাইল বা অন-ডিমান্ড ব্রেস্টফিডিং মানে যখন-তখন দুধ খাওয়ানো নয়; বরং শিশুর ক্ষুধার সংকেত বুঝে সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো।

১. শিশুর ক্ষুধার প্রাথমিক সংকেত লক্ষ্য করুন

কান্না শুরু হওয়ার আগেই যদি শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া যায়, তাহলে সে সাধারণত সহজে ও শান্তভাবে দুধ পান করতে পারে।

On-Demand Breastfeeding
On-Demand Breastfeeding


    ২. শিশুকে সঠিকভাবে বুক ধরান (Proper Latch)

    সঠিকভাবে বুক না ধরতে পারলে—

  • শিশু পর্যাপ্ত দুধ পায় না,

  • মায়ের নিপলে ব্যথা হতে পারে,

  • স্তন পুরোপুরি খালি না হওয়ায় দুধ জমে যেতে পারে।

  • সঠিক ল্যাচের লক্ষণ—

    • শিশুর মুখ বড় করে খোলা থাকবে।

    • শুধু নিপল নয়, অ্যারিওলার (Areola) বেশিরভাগ অংশ মুখের ভেতরে থাকবে।

    • দুধ খাওয়ার সময় গিলতে থাকার শব্দ শোনা যেতে পারে।

    • মায়ের তীব্র ব্যথা হওয়া উচিত নয়।


    ৩. একটি স্তন ভালোভাবে খেতে দিন

    শিশুকে একটি স্তন থেকে ভালোভাবে দুধ পান করতে দিন, তারপর প্রয়োজন হলে অন্য স্তন দিন।

    এতে শিশুর শুরুর পাতলা দুধ (Foremilk) এবং শেষের তুলনামূলক চর্বিযুক্ত দুধ (Hindmilk)—দুটিই পাওয়ার সুযোগ থাকে।


    ৪. শিশুকে জোর করবেন না

    শিশু যদি নিজে থেকে বুক ছেড়ে দেয় এবং তৃপ্ত দেখায়, তাহলে জোর করে খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই।


    ৫. রাতে বুকের দুধ চালিয়ে যান

    প্রথম কয়েক মাস রাতে বুকের দুধ খাওয়ানো স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ।

    রাতের স্তন্যদান—

    • দুধ উৎপাদন বজায় রাখতে সাহায্য করে,

    • শিশুর পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক।


    ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিংয়ের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

    ❌ শুধুমাত্র ঘড়ি দেখে দুধ খাওয়ানো

    সব শিশুর ক্ষুধা এক সময়ে লাগে না। তাই শিশুর সংকেতকে গুরুত্ব দিন।


    ❌ কান্না শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা

    কান্না ক্ষুধার দেরিতে প্রকাশ পাওয়া একটি লক্ষণ। এর আগেই দুধ দেওয়ার চেষ্টা করুন।


    ❌ অল্প সময়েই বুক বদলে ফেলা

    খুব দ্রুত এক স্তন থেকে অন্য স্তনে চলে গেলে শিশু শেষের চর্বিযুক্ত দুধ কম পেতে পারে।


    ❌ নিজের ইচ্ছায় ফর্মুলা দুধ শুরু করা

    শুধু মনে হচ্ছে দুধ কম হচ্ছে—এমন ধারণার ভিত্তিতে ফর্মুলা দুধ শুরু করবেন না। আগে চিকিৎসক বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


    ❌ স্তন্যদানের সময় ধূমপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ

    ধূমপান শিশুর জন্য ক্ষতিকর। অ্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।


    কর্মজীবী মায়েদের জন্য পরামর্শ

    চাকরি বা কর্মস্থলে থাকলেও অনেক মা সফলভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন।

    কিছু উপায়—

    • মাতৃত্বকালীন ছুটির যথাযথ ব্যবহার করুন।

    • প্রয়োজনে বুকের দুধ সংগ্রহ (Express) করে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করুন।

    • শিশুর যত্নদাতাকে সংরক্ষিত দুধ খাওয়ানোর নিয়ম শেখান।

    • বাড়িতে থাকাকালীন শিশুর চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ দিন।


    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

    নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্তন্যদান বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন—

    • শিশুর ওজন ঠিকমতো বাড়ছে না।

    • শিশু বুকের দুধ খেতে চায় না।

    • খাওয়ার সময় বারবার ঘুমিয়ে পড়ে এবং পর্যাপ্ত দুধ পান করতে পারে না।

    • শিশুর প্রস্রাব স্বাভাবিকের তুলনায় কম হচ্ছে।

    • মায়ের নিপলে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত বা ক্ষত হয়েছে।

    • স্তন লাল, ফুলে যাওয়া ও জ্বর এসেছে (মাস্টাইটিসের লক্ষণ হতে পারে)।

    • জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে শিশুর জন্ডিস বা খাওয়ানোর সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে।


    সফল স্তন্যদানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

    • জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব বুকের দুধ শুরু করুন।

    • শিশুর ক্ষুধার সংকেত লক্ষ্য করুন।

    • পরিবারকে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে উৎসাহিত করুন।

    • মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করুন।

    • শিশুর ওজন ও বৃদ্ধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।

    • কোনো সমস্যায় দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


    প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

    ১. ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং কি নিরাপদ?

    হ্যাঁ। সুস্থ নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে WHO ও UNICEF-এর সুপারিশ অনুযায়ী শিশুর ক্ষুধার সংকেত অনুযায়ী বুকের দুধ খাওয়ানো নিরাপদ এবং উপকারী।


    ২. দিনে কতবার বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত?

    প্রথম কয়েক সপ্তাহে অনেক নবজাতক ২৪ ঘণ্টায় ৮–১২ বার বা তারও বেশি বুকের দুধ পান করতে পারে। এটি স্বাভাবিক।


    ৩. শিশু বারবার দুধ চাইলে কি বুঝতে হবে দুধ কম হচ্ছে?

    সব সময় নয়। নবজাতকদের ঘন ঘন বুকের দুধ চাওয়া স্বাভাবিক। তবে যদি ওজন না বাড়ে বা প্রস্রাব কম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


    ৪. ফ্রিস্টাইল ব্রেস্টফিডিং কি মায়ের দুধ বাড়ায়?

    অনেক ক্ষেত্রে হ্যাঁ। শিশুর ঘন ঘন ও কার্যকর স্তন্যদান দুধ উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে সাহায্য করে।


    ৫. কখন ফর্মুলা দুধের প্রয়োজন হতে পারে?

    কিছু বিশেষ চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফর্মুলা দুধের প্রয়োজন হতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তে শুরু করা উচিত নয়।


    ফ্রিস্টাইল বা অন-ডিমান্ড ব্রেস্টফিডিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে শিশুর ক্ষুধার সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। এই পদ্ধতি শিশুর পুষ্টি, সুস্থ বৃদ্ধি, মানসিক নিরাপত্তা এবং মায়ের দুধ উৎপাদন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফও নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিকে সমর্থন করে। তাই ঘড়ির সময়ের পরিবর্তে শিশুর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া, সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং কোনো সমস্যা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই একজন মায়ের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত।


    আরও পড়ুন:

    Zaima Arohi - BDBDT লেখক

    লেখক: জাইমা আরোহি

    BDBDT একটি নির্ভরযোগ্য বাংলা তথ্যভিত্তিক ব্লগ, যেখানে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, জীবনধারা, অনলাইন টিপস, সাধারণ জ্ঞানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহজ, নির্ভুল ও গবেষণাভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো পাঠকদের জন্য মানসম্মত, তথ্যসমৃদ্ধ এবং সহজবোধ্য কনটেন্ট উপস্থাপন করা, যাতে তারা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এক জায়গায় পান। নিয়মিত নতুন আর্টিকেল, ব্যবহারিক পরামর্শ এবং আপডেটেড তথ্যের মাধ্যমে BDBDT সবসময় জ্ঞানকে সবার কাছে সহজলভ্য করার চেষ্টা করে।

    আমাদের লক্ষ্য হলো গবেষণাভিত্তিক ও পাঠকবান্ধব কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক স্বাস্থ্য তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নিয়মিত নতুন আর্টিকেল ও সচেতনতামূলক তথ্যের মাধ্যমে BDBDT পাঠকদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে।

    জাইমা আরোহি সম্পর্কে আরও জানুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url